শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২০

‘১১ হাজার টাকায় কলম ক্রয়’ কাল্পনিক রাজশাহী

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ৭:০২:০৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উন্নয়ন প্রকল্পে ১১ হাজার টাকায় দুটি কলম ক্রয়ের বিষয়টি কাল্পনিক বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদী। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ ধরণের প্রচারনা চলছে এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উপাচার্য ঘটনা ঘটাচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রকল্পের টাকায় অধ্যাপক সামাদী গ্রন্থাগারের উন্নয়নে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বেশকিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যার প্রেক্ষিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক সামাদী বলেন,‘গ্রন্থাগারের উন্নয়ন প্রকল্পে ১১ হাজার টাকায় দুটি কলম ক্রয়ের একটি কাল্পনিক গল্প বলা হয়েছে। এ ধরনের কোনো কলম ক্রয় করা হয়নি। প্রকল্পের কাজে যেসব বলপেন ক্রয় করা হয়েছে সেগুলোর দাম সর্বোচ্চ দশ থেকে বিশ টাকা। আর মাঝেমধ্যে যেসব জেলপেন ক্রয় করা হয়েছে সেগুলোও প্রতিটি সর্বোচ্চ পঞ্চাশ টাকা মূল্যের।’

অধ্যাপক সামাদী বলেন, ‘উপাচার্য দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা কমিয়ে নিজের মেয়ে ও জামাতাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি অপরিকল্পিত উন্নয়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ অপচয় করেছেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষকদের একাংশ বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এই আন্দোলনে আমিও যুক্ত। তাই উপাচার্য প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আমার বিরুদ্ধে এরকম ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের কার্যক্রম ও সেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে হেকেপ’র (হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট) অর্থায়নে ২০১৪ সালের ১লা জুলাই ‘অটোমেশন অ্যান্ড ডিজিটালাইজেশন অব রাজশাহী ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল লাইব্রেরি’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয় তিন কোটি ২৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় ট্রান্সটাইল গেইট, আরএফআইডি গেইট, সেল্ফ চেক মেশিন, বুক ড্রপ মেশিন, হ্যান্ড হেল্ড রিডার, লার্জ স্ক্যানার, জেনারেটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা হয়। ওই সময় গ্রন্থাগারের প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক সামাদী। তবে ২০১৭ সালের ১৪ জুন তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক সামাদী বলেন,’আমি প্রকল্পটির সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলাম। প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। কিন্তু বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাকে প্রশাসক থেকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। ২০১৭ সালে সিন্ডিকেটের ৪৭১তম সভায় আমার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পরে হেকেপ থেকেও ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রকল্পের যাবতীয় কাগজপত্র তদন্ত করেন। প্রকল্প চলাকালীন দুটি সরকারি অডিট ও একটি বিশ্ব ব্যাংকের অডিট সম্পন্ন হয়। সেসব অডিটে কোনো আপত্তি ছিল না। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রজেক্ট কমপ্লিশন রিপোর্ট উপাচার্য অনুমোদন করে হেকেপে প্রেরণ করেন। বিনা আপত্তিতে অনুমোদনের পরও তিনি আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে এসব করছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে সুলতান-উল-ইসলাম, এসএম এক্রাম উল্যাহ,মিজানুর রহমান,মোস্তফা তারিকুল আহসান, বিশ্বজিৎ চন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত:

সর্বশেষ

আমাদের ফেসবুক পাতা

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল


প্রতিনিধি নিয়োগ

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রাসেল ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক : বনি আমিন
বার্তা সম্পাদক : রাইতুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয় : ১৬১/১/এ উলন, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯
মোবাইল : 01715674001
বিজ্ঞাপন : 01727338602
ইমেইল : alorprotidin@gmail.com, news.alorprotidin@gmail.com

Developed by RL IT BD