করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৪,০১৯ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৮ ◈ মোট সুস্থ্য : ৬৬,৪৪২
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

‘৮০ ভাগ ভাড়া বাড়ালে জনগণের উপর প্রচণ্ড চাপ বাড়বে’

৩০ মে ২০২০, ৮:৪৫:১২

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, করোনার এই সময় ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সীমিত পরিসরে’ গণপরিবহন চালানোর জন্য ৫০ শতাংশ সিট খালি রাখার কথা বলা হয়েছে। দেশের সব অফিস খুলে দেওয়ার পর কোনো পরিবহনের পক্ষে আদৌ এটা মানা সম্ভব নয়। এই অজুহাতে পরিবহন মালিকেরা বাস ভাড়া দ্বিগুণ করার দাবি জানিয়েছে এবং বিআরটিএ ৮০ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এটা কার্যকর করা হলে তা করোনা মহামারিতে আর্থিক সংকটে থাকা জনগণের উপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করবে। যেই মূহুর্তে দেশের জনগণকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার কথা, সেখানে উল্টো তাদের উপর আর্থিক চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠনো এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।

মান্না বলেন, করোনার সময় কিছুদিন তারা কিছু কম যাত্রী নিয়ে চললেও যে ভাড়া তারা নেবে, করোনা সংকট কেটে যাবার পর যখন আগের মতো করে তাদের সার্ভিস চলবে, তখন ভাড়া আর আগের জায়গায় ফিরে আসবে না। এই দেশের পরিবহন সিন্ডিকেট সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকলেও এটা নিশ্চিতভাবেই বলে দেওয়া যায়। এর মানে করোনা দীর্ঘদিনের জন্য বাস ভাড়ার এক নিপীড়নের পথ তৈরি করে দিবে।

তিনি বলেন, করোনা সংকটে পরিবহন নেতারা মালিক, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায়নি। অথচ বছরের পর বছর ধরে তারা প্রতিদিন গণপরিবহন থেকে চাঁদা তুলছে। পরিবহন মালিক, শ্রমিকরা দুই মাস ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রতি বছর ২ হাজার কোটি টাকা চাঁদা তোলার পরও সংকটে এই নেতাদেরকে কারো পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। এই চাঁদাবাজি বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার পরও আমাদের দেশে তার কোনো প্রভাব নেই। জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করলে মালিকেরা পূর্বের ভাড়াতেই গণপরিবহন চালাতে পারবে।

মান্না আরো বলেন, সরকার গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য কেবলমাত্র একটা গাইডলাইন দিয়েছে। কিন্তু তা কার্যকর করার জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। উপরন্তু এই অজুহাতে ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। একটা জনবিচ্ছিন্ন সরকারের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায় না। তবুও যেহেতু সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা তাদের হাতে, একারণে কোনোভাবেই গণপরিবহনের ভাড়া না বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাই।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে করোনা সংক্রমণের হার এখনো উর্ধ্বমুখী। প্রায় সকল বিশেষজ্ঞগণ এই অবস্থায় অঘোষিত লকডাউন শিথিল করার বিপক্ষে মত দিয়েছেন এবং ঈদের পর জুন মাস সবচেয়ে ভয়াবহ সময় হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। তারপরও সরকার দেশের প্রান্তিক জনগণের খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে অসমর্থ হওয়ায় সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লকডাউন খুলে দেওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিণতি পর্যবেক্ষণ করে দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে এখনই সবকিছু খুলে দেয়ার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: