fbpx
প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

ভারতীয় ৬৮ শতাংশ যুদ্ধাস্ত্রই ‘পুরনো’

১৫ মার্চ ২০১৮, ৭:১১:০৮
  • ‘⇒ভারতীয় ৬৮ শতাংশ যুদ্ধাস্ত্রই ‘পুরনো’

 

পলাশ হাওলাদার-

 

 

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগের গোপন তথ্য ফাঁস করলেন দেশটির সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল শরথ চন্দ। তিনি জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৬৮ শতাংশ অস্ত্রই পুরোনো, যাকে সামরিক ভাষায় ‘ভিন্টেজ’ শ্রেণির বলা হয়। তার এই তথ্যে প্রতিবেশী দুই শক্তিশালী দেশ চীন-পাকিস্তানের বিপরীতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আসহায় অবস্থার চিত্রই ফুটে উঠেছে।

অবশ্য এর আগে ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়তের মুখেও একই ধরনের সুর শোনা গিয়েছিল। তিনি বলেছেন, ‘চীন বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নম্বর হওয়ার পাশাপাশি সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছে।’ চীনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারতেরও যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, সেই কথাটিই এখানে তিনি অস্পষ্ট করে বলেছেন।

সেনাপ্রাধানের অস্পষ্ট কথাটাই এবার স্পষ্ট করলেন উপপ্রধান শরথ চন্দ। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনী পিছিয়ে পড়ার পেছনে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবকে দায়ী করেন।

ভারতীয় উপ সেনাপ্রধান বলেন, চলতি অর্থ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল সেনাবাহিনী। কিন্তু বাজেটে মাত্র ২১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা।’

দেশটির সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে শরথ চন্দ্রের দাবি, ‘সব দেশের সেনাবাহিনীতেই পুরনো সমরাস্ত্র থাকে। কিন্তু তা মোট যুদ্ধাস্ত্রের এক তৃতীয়াংশের বেশি নয়। অথচ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৬৮ শতাংশ সমরাস্ত্রই পুরনো।’

সম্প্রতি ডোকালাম সীমান্তে চীন-ভারতের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠে। বেশ কিছু দিন সেখাকে উভয় দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিল। একই সময়ে পাকিস্তান সীমান্তেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন-পাকিস্তান একজোট হয়েছে। ফলে দুই দেশের কোন একটির সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে একই সঙ্গে দুই ফ্রন্টে লড়তে হবে ভারতকে। কিন্তু দেশটির সেনাবাহিনীর সেই সক্ষমতা নেই। বরাদ্দের অভাবে সক্ষমতা বাড়াতেও পারছে না।

সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগান ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানির পরিবর্তে নিজ দেশেই অস্ত্র তৈরির ঘোষণাও দেন তিনি।কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় তা বেশি দূর আগাতে পারেনি। এখন সেনা উপপ্রধান শরথ চন্দ বলছেন, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত অর্থ ছাড় না দিলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।’

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: