ঈদুল ফিতরেও বসতঘরে উঠতে পারছেন না কলারোয়ার আমির পরিবার

৪ জুন ২০১৯, ১০:৩১:৪৬

স্টাফ রিপোর্টার: ‘কলারোয়া নিউজ’ অনলাইন পত্রিকা ও কলারোয়ার সাংবাদিক জুলফিকার আলীর ফেসবুকে ‘কলারোয়ায় মারপিট ও চুরি মামলা করে আমেরিকা প্রবাসী এখন হুমকির মুখে’ শিরোনামে সংবাদটি আমাদের দৃষ্টি গোচর হয়েছে।

সংবাদটিতে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রোণোদিত। এছাড়া সংবাদের একাংশে গত ৬ মার্চ সাতক্ষীরা জজ কোর্টের বাহিরে আমির হোসেনের জামাই বিপ্লব গাজীর নেতৃত্বে যে সাজানো হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। প্রকৃতপক্ষে বিপ্লব গাজী দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

এছাড়াও সংবাদে মনিরুজ্জামানের পিতা জমির উদ্দীন দফাদারকে বীর মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বনোয়াট। প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধার নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করছেন। সেটি যাচাইকল্পে প্রকৃত ঘটনা উ˜্ঘাটন হবে বলে জানান কলারোয়ার ১নং জয়নগর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের মৃত মতলেব দফাদারের ছেলে মো. আমির হোসেন।

প্রকৃত ঘটনা হলো: পারিবারিক জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘ প্রায় ২মাস যাবত বসতঘরে উঠতে পারছেন না কলারোয়ার আ.লীগ নেতা আমির হোসেনের পরিবার। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে সন্ত্রাসী মনিরুজ্জামান গংয়ের হুমকির ভয়ে নিজ পৈত্রিক বসত ভিটায় উঠতে পারছেন না অসহায় আমির হোসেনের পরিবার। জামায়াতের অর্থ যোগানদাতা মনিরুজ্জামান দফাদার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার মুখে বর্তমানে বসতবাড়ী ছেড়ে পালিয়ে থাকছেন অসহায় পরিবারটি।

এ ঘটনায় আমির হোসেন বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার মানিকনগর গ্রামের মৃত মতলেব দফাদারের ছেলে মো. আমির হোসেনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে মৃত জমির উদ্দীন দফাদারের ছেলে মনিরুজ্জামান দফাদারের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিলো। আমির হোসেনের পৈত্রিক ভোগদখলীয় ও রেকর্ডীয় সম্পত্তি জোর পূর্বক দখলের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে এলাকার ভূমিদস্যু খ্যাত জামায়াত নেতা মনিরুল দফাদার গং।

এ ঘটনার জের ধরে ২০ এপ্রিল বেলা ১১টায় দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া মনিরুজ্জামান দফাদার ও রুহুল আমিন, লিপু হোসেন, আহসান হাবিব ও নয়ন হোসেন, আব্দুল্লাহ সঙ্গবদ্ধ ভাবে মো. আমির হোসেনের বাড়ীতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে আমির হোসেনকে মারধর করতে থাকে। এ সময় আমির হোসেনের বাড়ীতে বেড়াতে আসা অন্তস্বত্বা মেয়ে মোছা: রাকিবা প্রতিবাদ করলে তাকেও এলাপাতাড়ীভাবে মারধর করে পা ভেঙ্গে দেয় এবং গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, হাতে থাকা এক জোড়া রুলি ও এক জোড়া কানের দুল খুলে নেয়। এছাড়া ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং শোকেচে থাকা এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকা, একটি শাওমী টার্চ মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এ সময় গুরুত্বর আহত রাকিবাকে এ্যামবুলেন্সযোগে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীরা এ্যামবুলেন্সটি গতিরোধ করে আটকে রাখে।

বিষয়টি তাৎক্ষণিক কলারোয়া থানার শরসকাটি ফাঁড়ির এসআই পারভেজকে অবহিত করলে উনি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সার্জারী কনসালটেন্ট ডা. মো. শরিফুল ইসলামের তত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে চিকিৎসক রাকিবা বেগমের পা ভেঙ্গে যাওয়ার কথা জানালে তিনি বাদী হয়ে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী ৪নং আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে মামলাটি রজ্জু করার আদেশ দেন। ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে মনিরুজ্জামানের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের জীবননাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে বিএনপি-জামাতের নাশকতাকালীন সময়ে সরশকাটি বাজারে প্রকাশ্যে আ.লীগ নেতা সালমান শাহকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে অভিযুক্ত আহসান হাবিব। এঘটনায় সাতক্ষীরা কোর্টে একটি চলমান মামলার ১নং আসামী আহসান হাবীব। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ও অসহায় আমির হোসেনের পরিবার সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।