করোনাকালে শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

২২ মে ২০২০, ২:৫২:০৫

মো.আরিফুল ইসলাম,বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :

ঈদ মানে আনন্দ,ঈদ মানে খুশি।
প্রতিবছর নানা ধরনের আয়োজনে পালন করা হয় ঈদ উৎসব। তবে এবছর করোনার থাবা যেন পাল্টে দিয়েছে বিশ্বের চিত্র। লকডাউনে স্থবির স্বাভাবিক অনেক কার্যক্রম। চিরচেনা সেই ঈদের আমেজ হয়তো এবার দেখা যাবে না। তবুও ঈদেত আনন্দ কিঞ্চিৎ উপভোগ করতে অনেকের সামান্য প্রস্তুতি। করোনা পরিস্থিতিতে এবার হয়তো একটু ভিন্নভাবেই পালন হবে শিক্ষার্থীদের ঈদ উৎসব। করোনা কালে এবারের ঈদ নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের নানা ভাবনা দৈনিক আলোর প্রতিদিনে পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরে হলো।

পরিবারের সাথে আড্ডা,গল্পগুজব ও ছবি তুলে দিনটাকে আনন্দময় করে তুলতে চেষ্টা করবো

ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ বলতেই আমরা বুঝি ১মাস রোজার পর নতুন জামা-জুতা, মজার মজার রেসিপি-মিষ্টান্ন, ঘুরাফেরা করে বেড়ানো আর সালামি তোলা। বিগত বছরগুলোতে আমরা এইভাবেই ঈদ পালন করে এসেছি। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন৷ ইতিমধ্যে আমরা ‘করোনা’র প্রকোপে পড়ে কোভিড ১৯ এর তাণ্ডবের হাত থেকে বাচার জন্য ঘরবন্দি হয়ে আছি দীর্ঘদিনযাবৎ।
বন্দী জীবন কারো কাম্য নয়। কিন্তু পরিস্থিতির স্বীকার আমরা। যেহেতু এইরকম এক ভয়াবহ অবস্থায় ধেয়ে গেছে পুরো বিশ্ব সেহেতু এবারের ঈদ অন্যান্য বছরের তুলনায় ভিন্নরূপে হতে চলেছে।
আমি মনে করি পরিবার,সমাজ,দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণের কথা চিন্তা করে হলেও আমাদের এবারের ঈদ ঘরে বসে পালন করা উচিত।
প্রত্যেক বছর তো নতুন জামা দিয়েই ঈদ করি, এবার আমি ও আমার পরিবার আমাদের জামা কেনার টাকাগুলো দান করেছি কিছু পরিচিত দরিদ্র পরিবারে।ঈদের দিন সাধারণত বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াতাম যা এ বছর হবেনা, তাতে কি? আমাদের আছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আমরা ঈদের দিন ঘরে বসেই বন্ধুদের সাথে ভিডিও কলে আড্ডা দিব। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বাসায় নতুন রেসিপি রান্না করতে পারি। পরিবারের সাথে আড্ডা,গল্পগুজব ও ছবি তুলে দিনটিকে আনন্দময় করে তুলবো ।

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বাসায় পরিবারের সাথেই সময় কাটিয়ে ঈদ উৎসব পালন করতে চাই

ঈদ অর্থ আনন্দ। কিন্তু এবারের ঈদ সবার জীবনে কতটুকু আনন্দ বয়ে আনবে তা জানিনা। করোনার এই সংকটপূর্ণ মুহূর্তে আমাদের প্রায় সবারই সময় কাটছে বিষন্নতায়। বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের সবার মনই ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।
ভাবছি, এবারের ঈদটা হয়তো অনেক মানুষই তাদের পরিবার ছাড়া উদযাপন করছে।জীবিকার বেহাল দশায় আর্থিক সংকটে পরেছে কেউ কেউ। কেউ যুদ্ধ করছে করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজে বাঁচতে কিংবা নিজের স্বজনকে বাঁচাতে। কারো কারো ক্ষেত্রে করোনা কেড়ে নিয়েছে তাদের প্রিয়জনকে। তাদের সবার কথা ভেবেই মনে হচ্ছে এবারের ঈদে আনন্দের ব্যাপকতায় ভাটা পরবে।
জানিনা এবার ঈদের নামাজ পড়ার সুযোগ হবে কিনা! নামাজ পড়ার সুযোগ হলেও হয়তো ঈদের মাঠে গিয়ে পড়া হবে না। তবে জানি, এই ঈদে আব্বুকে খুব মিস করব। এই ঈদ থেকে আব্বুর সাথে নামাজের পর আর ঈদের কোলাকুলি করা হবে না।

বাসায় গৃহবন্দী অনেকদিন ধরেই। বাসায় পরিবারের সাথেই সময় কাটিয়ে ঈদ উৎসব পালন করতে চাই। আনন্দটা তাদের সাথে ভাগ করে এবার ঈদের আনন্দ কিঞ্চিৎ উপভোগ করতে চাই।
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা রইলো।

শিক্ষার্থী, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাসায় মজার মজার রান্না করতে আম্মুকে সাহায্য করবো

করোনায় অবরুদ্ধ পৃথিবী। ঠিক এইসময়েই পবিত্র মাহে রমজান মাসের আগমন। সামনে ঈদ। নেই কোনো নতুন জামা। নতুন আয়োজন। নতুন আমেজ। সবই কেমন যেন খাপছাড়া। মনে নেই আনন্দ। কেমন হবে আমাদের এবারের ঈদ?

এবার একটু অন্যভাবে ভাবি? ভেবে দেখেছেন এমন কত রমজান আমরা পার করেছি লেখাপড়ার চাপ, অফিসের চাপ,কতশত হাজারো ব্যাস্ততায় ঠিকমত সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে পারেন নি। অথচ এবার অনেক শান্তিপূর্ণভাবে তাড়াহুড়ো ছাড়া সৃষ্টিকর্তাকে আরও বেশিকরে ডাকার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতি ঈদে নতুন জামা থাকে এবার নেই। আমাদের এবার নেই, একদল মানুষের কোনোবারেই থাকে না। কষ্টটা উপলব্ধি হচ্ছে? আমরা সামনে এগিয়ে আসলে হয়ত তাদের হাসির সাথে আমরাও কিছুটা মানষিক প্রশান্তি পাবো। এটা ঈদ আনন্দ থেকে কম কোথায়?
প্রতিবার বাইরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা হয়, এবার বাসায় হবে। পরিবারকে সময় দিবো। সবাই মিলে একসাথে ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবো। বাসায় মজার মজার রান্না করতে আম্মুকে সাহায্য করবো এতে কিছুটা শেখাও হয়ে যাবে অবশ্য। প্রযুক্তির যুগে দুরত্ব বলে কিছু নেই। তাই অনলাইনে বন্ধুদের ভিডিও বা অডিও কলিং করে অবশ্যই ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ভুলবো না। বাসায় থেকেই দিনটাকে যতটা সুন্দর ভাবে উদযাপন করা যায় সেই চেষ্টা করলেই একটা সুন্দর ঈদ এবারও হতে পারে। করোনা পরবর্তী সুস্থ নগরীতে সুন্দর ভাবে বাচার জন্য একটি ঈদ বাসায় থেকে নিরাপদে পালন করি।

নিজে সুস্থ থাকি, পরিবারকে সুস্থ রাখি। আমরা সুস্থ থাকলেই দেশটা সুস্থ থাকবে। সবাইকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা। 🌸

শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

পছন্দের খাবারগুলো নিজে রান্না করার চেষ্টা করবো

প্রতিবছরই ঈদকে ঘিরে থাকে নানা ধরনের পরিকল্পনা, ঈদের দিন ঘুরতে যাওয়া আরো অনেক কিছু৷ কিন্তু এবারের ঈদটা একটু অন্যরকম ভাবে কাটবে মনে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় ২ মাস গৃহবন্দী। বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা দেয়া বা তাদের সাথে নিয়ে ঈদ পরিকল্পনা এবার আর করা হবে না। এবার ঈদে বাসায় পরিবারের সাথে তাদের কাজে সহযোগীতা করে যাবো। আম্মুকে রান্নায় হেল্প করবো,পছন্দের খাবারগুলো নিজে রান্না করার চেষ্টা করবো। বন্ধু -বান্ধব আত্নীয়-স্বজন্দের মুঠোনফোনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবো ভাবছি। এবার করোনা পরিস্থিতিতে আত্নীয় স্বজনদের বাসায়ও যাওয়া হয়ে উঠবে না৷ তবে ভার্চুয়ালে ভিডিও কলে তাদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করবো। হাসিখুশি,আড্ডায় এবার পালন করতে চাই ঈদ উৎসব।

এবারের ঈদটা প্রতিবারের মত আমেজ না থাকলেও সামান্য আনন্দে পরিবারকে মাতিয়ে রাখার চেষ্টা করবো। আল্লাহ যেন এই করোনা পরিস্থিতি থেকে আমাদের মুক্তি দান করেন। সব কিছু যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠে। সবাই ঈদে ঘরে থেকে পালন করবে এবং সুস্থ সচেতন থাকবে সেই প্রত্যাশা করি।
আমার পক্ষথেকে সকলকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা রইলো।

শিক্ষার্থী, বিডিএস-৩১ তম ব্যাচ,
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।