সীতাকুণ্ডে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খুলেছে দোকানপাট

২৩ মে ২০২০, ২:০৫:২১

মোঃ ইমরান হোসেন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

সীতাকুৃণ্ডে দ্রুত গতিতে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বেশির ভাগ মানুষই মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। স্বাস্থ্যবিধির কোনটিই অনুসরন না করে খোলা হয়েছে দোকানপাট। সামাজিক দূরত্ব কি বুঝেননা অনেকে। তারমধ্যে রয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। তবে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ জন। নতুন আক্রান্ত ৯ জনসহ সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৫৬। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ জন।

এদিকে সীতাকুণ্ড সদর ব্যবসায়ী মালিক সমিতি গত ১০ মে থেকে শপিংমল বন্ধের ঘোষনা দেয়। বাজার কমিটির এই সিদ্ধান্তকে অমান্য করে কিছু ব্যবসায়ী ব্যবসা চালিয়ে যান। পরে খবরটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে জন সমাগম বাড়তে থাকে সীতাকুণ্ড বাজারে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা না করায় এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম বন্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য উপজেলার সকল শপিংমল বন্ধ ঘোষনা করেন। বন্ধ ঘোষনার পর তা কার্যকরে মাঠে নামে প্রশাসন। সীতাকুণ্ড ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সহযোগীতা নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এতে করে কমতে শুরু করে জন সমাগম। তারপরও কিছু লোভী ব্যবসায়ী প্রশাসনের অনুপস্থিতিতে দোকার খোলার চেষ্টা চালায়।

কয়েকজন পথচারীর সাথে কথা হলে তারা ক্ষোভের সাথে জানান, সেনাবাহিনী আসতে দেখে দোকানপাট বন্ধ করে ফেলেন। পরে আবার খুলে বসে থাকে। এসব অসাধু, লোভী ব্যবসায়ীদের প্রশাসন কতক্ষণ পাহারা দিবেন?

দোকান খোলার বিষয়টি স্বীকার করলেন বাজার কমিটির কয়েকজন দায়িত্বশীল। তারা জানান, বার বার বলার পরও কিছু ব্যবসায়ী দোকান খুলে বসে থাকেন। যখন থেকে শপিংমল বন্ধ ঘোষনা করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয় তখন থেকে দোকান খোলা কমে গেছে। প্রশাসনকে কমিটির পক্ষ থেবে স্বার্বক্ষনিক সহযোগীতা করছেন বলেও জানান তারা।

এদিকে শুরু থেকে ইলেক্ট্রিক মিডিয়া, প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে বুঝানো হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব কি, কিভাবে দূরত্ব মেনে চলা যায়, করোনাভাইরা প্রতিরোধে কি কি করণীয়। তারপরও অনেকে সেটা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন। বেশিরভাগ মানুষই মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। সামাজিক দূরত্ব না মানার পিছনে যে সাধারন মানুষ রয়েছেন তা নয়। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও রয়েছেন এই তালিকায়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, আসলে বিষয়টি আমাকেও ভাবায়। আমরা সারাদিন, পুরোমাস জুড়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য তাগিদ দিয়ে আসছি। কেউ যদি না বুঝেন তাহলে বুঝিয়ে দিচ্ছি। নিজেরাও মেনে চলছি। অথচ এই সামাজিক দূরত্বটা কি জিনিস মাঝেমধ্যে সবাই ভুলে যায়। কারন হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ বন্ধু পরায়ন। হঠাৎ করে নতুন একটি অভ্যাসের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগে। আমরা যতই বলি, কাজের মধ্যে থাকলে অনেকে সামাজিক দূরত্ব কি ভুলে যায়।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর জুলফিকার আলী মাসুদ শামীম জানান, আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলি, অন্যকেও মেনে চলার উৎসাহ। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারকে সহযোগীতা ও দেশকে বাঁচানো আপনার, আমার সবার। তাই সকলের উচিৎ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা।

সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নূর উদ্দীন রাশেদ জানান, করোনা প্রতিরোধে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং সরকার ঘোষিত স্ববাস্থ্যবিধি মেনে চললে করেনা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখা অনেক সহজ। তাই সকলকে অনুরোধ করব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, নিজে সুস্থ থাকুন, পরিবারকেও সুস্থ রাখুন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় জানান, করোনা প্রতিরোধে যা যা করনীয় আমরা করে যাচ্ছি। এছাড়াও সীতাকুণ্ড উপজেলায় সরকারী ও বেসরকারীভাবে অসহায় মানুষদের ত্রাণ বিতরন অব্যাহত আছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।