কালের বিবর্তনে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে গ্রাম-বাংলার হালের গরু লাঙল-জোয়াল

৫ জুলাই ২০১৮, ৪:৪৭:২০

উত্তম চক্রবর্ত্তী,মনিরামপুর(যশোর)অফিস:- বাঙ্গালির চির চেনা ঐতিহ্য কাঠের লাঙল,কালের বিবর্তনে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে ।এক সময় যশোর জেলার মণিরামপুর সহ আশেপাশে প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোতে চাষাবাদের অণ্যতম উপকরন হিসাবে কাঠের লাঙলের ব্যবহার ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। লাঙল ছাড়া গ্রাম-বাংলায় চাষাবাদের কথা চিন্তায় করা যেত না। বিজ্ঞানের আধুনিক প্রযুক্তির ছোয়ায় কালের লাঙল সেই স্থান দখল করায় দিনে দিনে হারিয়ে যেতে বসেছে কাঠের লাঙল। ক্ষেতে খামারে কৃষক লাঙল ও মই দিয়ে চাষাবাদের দৃশ্য সবার নজর কাড়তো এক সময় । হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য চাষাবাদের বহু ব্যবহারিত কাঠের হাতল ও লোহার ফাল বিশিষ্ট লাঙল আজ বিলুপ্তির পথে। আধুনিক যুগে চাষাবাদের যান্ত্রিক উপকরন আবিষ্কারের প্রভাবে ক্রমোশ হারিয়ে যাচ্ছে লাঙল জোয়াল,মই ও হালের বলদ। এ সবের ব্যবহার সল্প আয়ের কিছু সংখ্যক কৃষক পরিবারে মধ্যে এখনো কোন রকমে টিকে রয়েছে। দেখা যেত খুব ভোর বেলা প্রান্তিক কৃষক তার ঘাড়ে লাঙল জোয়াল আর মই রেখে এক হাতে গরু শাসনের পাচুনি লাঠি আর অন্য হাতে চাষাবাদের উপযুক্ত দুই বলদের দড়ি ধরে রেখেছে। চাষাবাদ শেষ করে কর্দমাক্ত শরীরে ক্ষেতের আইলে বউঠুনির নিয়ে আসা সকালের পান্তা আর কাচা মরিচ পিয়াজ দিয়ে ভাত খেয়ে নিয়েছেন কৃষক। বিশ্রাম শেষে আবার ও কৃষকের ঠাই ঠাই শব্দ শোনা যেত। অনেক সময় দেখা যেত নিজের সন্তানকে মইয়ে বসিয়ে চাষাবাদের জমি সমান করার জন্য ষাড় গরু দিয়ে দাবড়ানো যেন ছোট বেলার স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কৃষি কাজে ঠায় করে নিয়েছে যান্ত্রিক যন্ত্র পাওয়ার টিলার। অতি অল্প সময়ে কৃষকের সমস্ত জমি চাষাবাদ সম্পর্ন করা যায় এই যন্ত্রের মাধ্যমে। তাতে আর কি হবে,কৃষকের কাঠের লাঙলের চাষ যান্ত্রিক যন্ত্রের চেয়ে যে দ্বিগুন ভাল তা বলার অবকাশ রাখে না। এখন আর এ অঞ্চলের গ্রাম গঞ্জে কালের সাক্ষী লাঙল,জোয়াল,মই ইত্যাদি সরজামের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা যায় না বিক্রেতাদের। অতিতের সেই কামারের ঠক ঠক শব্দ আর কানে আসে না। যারা এগুলোকে পেশা হিসাবে নিয়ে তৈরি করতেন তাদের ও অনেকেই এখন বেকার। পর্যাপ্ত ক্ষেত খামার না থাকায় এবং চাষ জমি বাদ দিয়ে ঘের করার কারনে এটি আজ বিলুপ্তির পথে বলে মনে করছেন মণিরামপুরে সাধারন চাষিরা।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।