রাঙ্গাবালীতে আমন ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহারে গবাদিপশুর ঝুঁকি, কৃষকদের সতর্ক করল কৃষি বিভাগ
মো: সুজন খান
স্টাফ রিপোর্টার
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে আমন ধানের জমিতে কীটনাশক ও অন্যান্য বালাইনাশকের অনিরাপদ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে দুটি গরু ও একটি মহিষের মৃত্যুর ঘটনায় বিষক্রিয়ার সন্দেহ করছেন পশুর মালিকেরা। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগও করা হয়েছে। তবে পশুগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ পরিস্থিতিতে বালাইনাশক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন, বিষমিশ্রিত পানি জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়া রোধ এবং ব্যবহৃত ওষুধের খালি বোতল ও প্যাকেট নিরাপদে অপসারণের পরামর্শ দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমন ধানের জমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের দানাদার ও তরল বালাইনাশক ব্যবহার করেন। এসব বালাইনাশক নির্ধারিত মাত্রা ও নিয়ম অনুসরণ না করে প্রয়োগ করলে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি বিষাক্ত উপাদানযুক্ত পানি পান কিংবা দূষিত ঘাস ও উদ্ভিদ খাওয়ার মাধ্যমে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সম্প্রতি বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাববুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস ফকিরের দুটি গরু মারা যায়। তাঁর সন্দেহ, বিষক্রিয়ার কারণে গরু দুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
একই ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের আমির গাজীর একটি মহিষও মারা গেছে। এ ঘটনায়ও বিষপ্রয়োগের সন্দেহে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে গরু দুটি ও মহিষটির মৃত্যুর সঙ্গে বালাইনাশকের বিষক্রিয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বালাইনাশকের সঠিক ব্যবহার, নিরাপদ সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের পর বর্জ্য অপসারণ সম্পর্কে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বালাইনাশক প্রয়োগের পর লেবেলে উল্লেখিত নিরাপদ সময় পর্যন্ত জমিতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির প্রবেশ বন্ধ রাখা এবং বিষাক্ত উপাদান যাতে খাল-বিল, পুকুরসহ অন্যান্য জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমন ধানের জমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের দানাদার ও তরল বালাইনাশক ব্যবহার করেন। এসব বালাইনাশকের বিষক্রিয়ায় দূষিত পানি পান করলে কিংবা বিষাক্ত উপাদানযুক্ত ধানের চারা ও ঘাস খেলে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যুও হতে পারে।
তিনি বলেন, বালাইনাশক প্রয়োগের সময় কৃষকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জমির বিষমিশ্রিত পানি যাতে খাল, বিল, পুকুরসহ অন্য কোনো জলাশয়ে মিশতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বালাইনাশক প্রয়োগের পর লেবেলে উল্লেখিত নিরাপদ সময় পার না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, বালাইনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ওষুধ নির্বাচন, সঠিক নিয়ম অনুসরণ এবং নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবহারের পর খালি বোতল ও প্যাকেট যত্রতত্র না ফেলে পণ্যের লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদে অপসারণ করতে হবে। এসব সতর্কতা মেনে চললে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও গবাদিপশুর ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না
